বানু আপা (ছদ্মনাম) থাকেন গাজীপুরের একটি ভাঙা ঘরে। বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে লাঠির উপর ভর করেও ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে তার জীবনের কষ্টের গল্প জানতে পারি। এরপর সর্বপ্রথম তার ঘরেই পৌঁছে দেওয়া হয় আমাদের ঈদ উপহার।
বানু আপা যখন লাঠির উপর ভর করে দাঁড়িয়ে ঈদ উপহারটি গ্রহণ করছিলেন, তখন বোঝা যাচ্ছিল দাঁড়িয়ে থাকতে তার কত কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু সেই কষ্টের মাঝেও তার মুখে ছিল এক অপার আনন্দের হাসি।
কিশোরগঞ্জ ইউনিট
এই সামান্য উপহার পেয়ে বানু আপার সেই অমূল্য হাসি আমাদের হৃদয় ভরে দিয়েছে এবং আমাদের কাজ করার অনুপ্রেরণা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রেখা বানু, বয়স মাত্র ২৬ বছর। থাকেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি ছোট গ্রামে। বাবা নেই, পরিবারের আয়ের কোনো স্থায়ী উৎসও নেই। তিন সদস্যের এই পরিবারটি খুবই কষ্টের মধ্যে দিন পার করছে। তাদের সেই কষ্টের মাঝে একটু হাসি ফোটাতে ঈদ উপহার নিয়ে ছুটে যান আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা।
মোছাঃ মালেকাতুন্নেছা, একজন অসহায় বিধবা। স্বামী নেই, আর আছে ছয়টি মেয়ে। তাকে দেখাশোনা করার মতো কোনো ছেলে সন্তান নেই। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মাঝেও তিনি লড়াই করে বেঁচে আছেন। তার হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছে ঈদের সামান্য উপহার।
এমন অসংখ্য গরীব, অসহায়, বৃদ্ধা ও প্রতিবন্ধী মানুষের তথ্য সংগ্রহ করেছেন রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবকরা। প্রায় শতাধিক পরিবারের তালিকা তৈরি করে তাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ঈদ উপহার।
আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ এবং গাজীপুরের বিভিন্ন অসহায় মানুষের ঘরে পৌঁছে গেছে এই ঈদ সামগ্রী।
এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ হয়তো তাদের জীবনের সব কষ্ট দূর করতে পারবে না, কিন্তু তাদের মুখে যে হাসি ফুটেছে, সেটিই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
আপনিও চাইলে রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ সংগঠনের সদস্য হয়ে গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।
মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাস নিয়েই আমাদের পথচলা।
রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ
দেশ ও মানুষের কল্যাণে।







